৫ বছর, ৭০+ ক্লায়েন্ট, Fiverr-এ Level Two Seller — সবই বাংলাদেশের একটা ছোট শহর থেকে। শুরুতে নিজেকে যা বলতাম, এই লেখায় সেটাই।

আমি কুষ্টিয়ার।

ঢাকা না। সান ফ্রান্সিসকো না। বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের একটা ছোট শহর — যেখানে আমার বয়সী বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে BCS-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর আমি useEffect কী জিনিস সেটা শিখছিলাম।

পাঁচ বছর পর — আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া, ইতালি — পৃথিবীর নানা প্রান্তের ৭০+ ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করেছি। SoftWebGrove চালাচ্ছি। Fiverr-এ Level Two Seller।

লোকেশন কখনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা ছিল ভাবনায়।

২০২০ সালে যে ছেলেটা একটা ধার করা ল্যাপটপের সামনে বসে শুরু করেছিল — তাকে আজ পাঁচটা কথা বলতাম।

১. সস্তা হওয়ার পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করো। আস্থার পেছনে দৌড়াও।

শুরুতে Fiverr-এ প্রতিটা কাজে $৫-এ বিড করতাম। ভাবতাম দাম-ই আমার একমাত্র অস্ত্র।

ভুল ভাবতাম। ওটাই আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল।

যেসব ক্লায়েন্ট সবচেয়ে সস্তা ডেভেলপারকে নেয়, তারা তোমাকেও সস্তা ডেভেলপারের মতোই দেখে। ঘোস্ট করে। স্কোপ বাড়ায়। ৩-স্টার রিভিউ দেয় — "দাম ঠিকঠাক ছিল" লিখে।

যেদিন আমি সর্বনিম্ন রেট $৫০ করলাম, সেদিন থেকেই ক্লায়েন্টরা ডেডলাইনকে সম্মান করতে শুরু করল, সময়মতো রিপ্লাই দিতে শুরু করল, এমনকি টিপও দিল।

গ্লোবাল মার্কেট জিতে নেওয়া যায় না — অন্য একটা দেশের একটা ছেলের চেয়ে সস্তা হয়ে। জেতা যায় — এমন কেউ হয়ে, যার সাথে মানুষ বারবার কাজ করতে চায়।

২. একটা স্ট্যাকে গভীরে যাও, এ-ওটা ছুঁয়ে দেখে নয়।

দুই বছর ধরে আমি PHP, React, Django, Laravel — সপ্তাহের ট্রেন্ড অনুযায়ী লাফালাফি করেছি।

আমি "ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার" ছিলাম — সবচেয়ে বাজে অর্থে। সবকিছু একটু একটু জানতাম, কোনোটায় ভালো না।

যেদিন MERN আর Next.js-এ পুরোপুরি কমিট করলাম, প্রতি সপ্তাহের নতুন ট্রেন্ড ছাড়লাম — সেদিন থেকেই আউটপুট দ্বিগুণ হলো। ক্লায়েন্টরা আমাকে রেফার করতে শুরু করল, কারণ আমি SaaS ড্যাশবোর্ড এক সপ্তাহে শিপ করতে পারতাম — তিন সপ্তাহে না।

গভীরতা যোগ হয় চক্রবৃদ্ধি হারে। প্রস্থ যোগ হয় না।

৩. তোমার টাইমজোন বাধা না, সুবিধা।

আগে GMT+6-এ থাকার জন্য আমি প্রায় ক্ষমা চাইতাম।

তারপর একদিন বুঝলাম — নিউইয়র্কের ক্লায়েন্ট যখন ঘুমাচ্ছে, আমার হাতে তখন আট ঘণ্টার নিরবিচ্ছিন্ন সময়। সে ঘুম থেকে উঠে দেখে — কাজের ডেমো রেডি। ম্যাজিকের মতো লাগে তার কাছে।

তুমি যদি বাংলাদেশে থাকো আর তোমার ক্লায়েন্ট পশ্চিমে — তুমি ওদের পেছনে না। তুমি ওদের চেয়ে এক দিন এগিয়ে, প্রতিদিন।

সেই হিসেবেই চার্জ করো।

৪. দরকার পড়ার আগেই ব্র্যান্ড বানাও।

তিন বছর আমার কোনো ওয়েবসাইট ছিল না। LinkedIn-এ উপস্থিতি ছিল না। Fiverr-এর বাইরে কোনো পোর্টফোলিও ছিল না।

প্রতিটা নতুন ক্লায়েন্ট শূন্য থেকে শুরু — Fiverr সার্চ, স্ক্রল, ক্লিক। আমি অ্যালগরিদমের দয়ায় বাঁচতাম।

তারপর mhtawfik.com বানালাম, লেখা শুরু করলাম। "Fiverr-এ খুঁজে পেলে ভাগ্য" থেকে বদলে গেল "Google-এ আমার নাম সার্চ করে কল বুক করছে"। একই মানুষ, একদম আলাদা লিভারেজ।

তোমার নাম যদি Google-এ কোনো রেজাল্ট না দেখায় — যে মার্কেট সবচেয়ে বেশি টাকা দেয়, সেই মার্কেটের কাছে তুমি অস্তিত্বহীন।

৫. "ডেভেলপার" অংশটা কাজের সবচেয়ে ছোট অংশ।

আমি ভাবতাম ফ্রিল্যান্সিং মানে কোড লেখা। মানে না।

মানে হলো:

  • উত্তর না জানলেও এক ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই দেওয়া।
  • "না" বলা — রিফান্ড দেওয়ার আগেই।
  • ১২টা ইমেইলের জায়গায় একটা Loom ভিডিও পাঠানো।
  • ক্লায়েন্টের ক্ষতি হবে এমন ফিচারে কখন "না" বলতে হবে — সেটা জানা।

২০২৬-এ যারা সত্যি টাকা কামাচ্ছে — তারা সেরা ইঞ্জিনিয়ার না। তারা সেরা সহযোগী, যারা ভালো কোডও লেখে।

এরপর

এই পাঁচ বছরের শিক্ষাগুলো নিয়ে একটা বড় গাইড লিখছি বাংলাদেশি ডেভেলপারদের জন্য — ইংরেজিতেও — প্রাইসিং, কনট্রাক্ট, ট্যাক্স, আর সবচেয়ে কম আলোচিত একটা ব্যাপার: কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যায় এই কাজে।

বের হলে জানতে চাইলে এখানে হ্যালো বলো। একটা রিপ্লাই, একজন মানুষ, কোনো ফানেল না।

বাংলাদেশের ছোট শহর থেকেও গ্লোবাল ক্যারিয়ার গড়া যায়। আমি গড়েছি। তোমার wifi রাউটার কোথায় — ইন্টারনেট সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না।