Upwork, Fiverr, LinkedIn — সবই অ্যালগরিদমের দয়ায় চলে। নিজের ডোমেইন একমাত্র জায়গা যেখানে তুমি অ্যালগরিদমের ভাড়াটে না, বাড়িওয়ালা। কেন প্রতিটা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারের নিজের ওয়েবসাইট দরকার — আজই।

বাংলাদেশের প্রতিটা ফ্রিল্যান্সার আমাকে এক কথা বলে:

"ভাই, ক্লায়েন্ট তো Upwork-এই খুঁজি। সাইটের কী দরকার?"

আমিও এই প্রশ্ন নিজেকে করেছিলাম। প্রথম তিন বছর কোনো ওয়েবসাইট ছিল না। Fiverr-এ গিগ ছিল, Upwork-এ প্রোফাইল ছিল, LinkedIn-এ পোস্ট দিতাম। ক্লায়েন্ট আসত। মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আসত।

তারপর Upwork-এ Connect-এর দাম বাড়াল। Fiverr-এর সার্চ অ্যালগরিদম বদলাল। আমার গিগ র‍্যাঙ্কিং রাতারাতি পড়ে গেল।

এক সপ্তাহে আয় অর্ধেক।

সেদিন প্রথম বুঝলাম — যে কথাটা বলছিলাম "সাইটের কী দরকার", সেটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল।

অ্যালগরিদম তোমাকে ভাড়া দিচ্ছে — তুমি বাড়িওয়ালা না

Upwork, Fiverr, LinkedIn — এগুলো তোমার ব্যবসা না। এগুলো চ্যানেল

চ্যানেল মানে যেকোনো দিন বন্ধ হতে পারে। ভিজিবিলিটি কমাতে পারে। ফি বাড়াতে পারে। পুরো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারে — কারণ ছাড়াই।

তোমার যা আসলেই নিজের সেটা হলো:

  • তোমার নাম
  • তোমার ক্লায়েন্ট লিস্ট
  • তোমার ডোমেইন

বাকি সবই ভাড়াঘর। ভাড়াঘরে যত সুন্দর ডেকোরেশন করো, ভাড়াঘর ভাড়াঘরই।

নিজের সাইট কী দেয় — যা প্ল্যাটফর্ম দেয় না

পাঁচ বছর পর — আমি এখন যা পাই সেটা আগে ছিল না:

১. Google থেকে সরাসরি লিড

কেউ যখন Google-এ "M H Tawfik" বা "Bangladesh Next.js developer" সার্চ করে — সরাসরি আমার সাইটে আসে। Fiverr কেটে নিচ্ছে না। Upwork ১০% নিচ্ছে না। মেসেজ সরাসরি আমার ইনবক্সে।

প্রতিটা লিডের জন্য $০ কমিশন। প্রতি মাসে $২,০০০+ সেভ — শুধু এই কারণেই।

২. দাম জানানোর স্বাধীনতা

Fiverr-এ $২,০০০ গিগ লিস্ট করতে পারলেও, ক্রেতা সার্চে $৫০ ফিল্টার দেখায়। আমার সাইটে আমিই সিদ্ধান্ত নিই — কে আসবে, কী দেখবে, কী দাম দেখবে।

দামের নিচে আগে থেকে যাচাই করা ক্লায়েন্ট — শুরু থেকেই উচ্চ-মানের কথোপকথন।

৩. বিশ্বাস তৈরি হয় আগেই

ক্লায়েন্ট প্রথমবার সাইটে আসে, ব্লগ পড়ে, পোর্টফোলিও দেখে, About পড়ে — তারপর যোগাযোগ করে। মানে, সে যোগাযোগ করার আগেই আমাকে কিছুটা জানে

এই পরিচিতি — কোনো প্ল্যাটফর্মে এটা সম্ভব না। Fiverr-এ তুমি একটা থাম্বনেইল আর ১৫০ শব্দের ডেসক্রিপশন। সাইটে তুমি একটা মানুষ

৪. পোর্টফোলিও তোমার নিয়মে

Upwork পোর্টফোলিও দেখায় ৫টা। Fiverr দেখায় ৩টা। তোমার সাইটে দেখাও যা ইচ্ছা — সেভাবে।

কেস স্টাডি লেখো। ভিডিও এমবেড করো। ক্লায়েন্ট লোগো রাখো। প্রতিটা প্রজেক্টের পেছনের গল্প বলো।

প্ল্যাটফর্ম ফ্রেম দেয়। নিজের সাইটে — তুমি ফ্রেম বানাও।

"কিন্তু আমি ডিজাইনার না"

এটা সবচেয়ে কমন আপত্তি।

উত্তর: তোমাকে কেউ Pixar-এর মতো সাইট বানাতে বলেনি। তোমাকে দরকার একটা সাইট — যেটা:

  • তোমার নাম স্পষ্ট দেখায়
  • তুমি কী করো — তিন বাক্যে বলে
  • তিনটা ভালো কাজের নমুনা দেখায়
  • যোগাযোগের একটা উপায় দেয়

এই চারটা থাকলেই হয়ে যায়।

আজকের দিনে এমন একটা সাইট ১ দিনে বানানো যায়। Next.js + Vercel = $০। ডোমেইন বছরে ৫০০ টাকার মধ্যে।

জটিল না। শুধু শুরু করার ব্যাপার।

যে ৫টা ভুল বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার করে

নিজে যেগুলো করেছি, এবং অন্যদের করতে দেখি:

  1. WordPress দিয়ে শুরু করে। ভারী, ধীর, দরকারের চেয়ে বেশি জটিল। Static Next.js সাইট ১০ গুণ দ্রুত, ১০ গুণ সিকিওর, পরে ম্যানেজও সহজ।
  2. শুধু ইংরেজিতে লেখে। তুমি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার — অন্তত হোম পেজে বাংলা সংস্করণ থাকুক। Google-এ দুইবার র‍্যাঙ্ক করার সুযোগ — বিনামূল্যে।
  3. "Hi, I am a passionate developer..." দিয়ে শুরু করে। এই লাইন পৃথিবীতে ৫০ লাখ সাইটে আছে। নিজের গল্প বলো — কুষ্টিয়া থেকে কীভাবে এসেছ, কেন কোড লেখ, কী দরকার বোঝো ক্লায়েন্টের।
  4. পোর্টফোলিও কেস স্টাডি ছাড়া দেখায়। স্ক্রিনশট কেউ পড়ে না। এক প্যারাগ্রাফ — সমস্যা কী ছিল, তুমি কী বানিয়েছ, ক্লায়েন্ট কী পেয়েছ।
  5. ব্লগ লেখে না। SEO-র সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মাসে ২টা পোস্ট, ৬ মাস — পরিবর্তন নিজেই দেখবে।

আজই কী করো

খুব সহজ একটা চেকলিস্ট:

  • [ ] একটা ডোমেইন কেনো — নিজের নামে। tawfik.com না পেলে mhtawfik.com। সবগুলো গেলে tawfik.dev
  • [ ] Next.js + Vercel দিয়ে একটা একপেজ সাইট দাঁড় করাও — আজ রাতে।
  • [ ] About + ৩টা প্রজেক্ট + Contact — এটুকুই MVP।
  • [ ] হোম পেজের একটা বাংলা সংস্করণ লেখো — অনুবাদ না, লেখো।
  • [ ] পরের সপ্তাহে একটা ব্লগ পোস্ট লেখো — তোমার সেরা কাজের পেছনের গল্প।

দুই সপ্তাহ পর তুমি অন্য একটা মানুষ — Google-এ যে অস্তিত্বহীন ছিল, সে এখন একটা ফলাফল।

প্ল্যাটফর্ম থাকুক। ক্লায়েন্ট ওখান থেকেও আসুক। কিন্তু তোমার বাড়ি যেন তোমার নিজের হয়।


নিজের সাইট বানাতে গিয়ে আটকে গেলে এখানে মেসেজ দাও। একটা রিপ্লাই, একজন মানুষ।